ফানপোস্টঃ ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার বিহীন এক অদ্ভুত সময়ে!! ;) ;) ;)
একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এই যুগে যদি যদি বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে গায়েবী বানী আসে যে, - "ওহে, নয়া প্রজন্ম, তোমাদের স...

শতকরা ৯৯ ভাগই উত্তর দিবে হার্ট ব্লক। উত্তর দিতে সময় নিবেন ১ সেকেন্ড। বাকী ৫৯ সেকেন্ড সময়ও তারা ফেসবুকের নামে উৎসর্গ করবে।
গতকাল থেকে একটা বিশেষ সময় চলছে বাংলাদেশের ইতিহাসে। সাকা কিংবা মুজাহিদের ফাঁসির চেয়েও আলোচিত বিষয় ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস এপের ব্লক। এই ব্যাপারে আজকে একটি কাল্পনিক মতামত জরিপ করা হয়। এতে নানা স্তরের মানুষের কাছ থেকে অসাধারন সব মতামত পাওয়া গেছে। সেগুলোই সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হইলোঃ
জনৈক তরুনঃ
এইটা কি হইলো ভাই? এইটা কি হইলো? এখন আমি কই খামু, কই ঘুমামু? কমোডে বইসা কি গুতামু?
জনৈক তরুনীঃ
ফেসবুক ভাইবার বিহীন দেশ এক বিশাল কারাগার! আমরা বন্দী কারাগারে। এমনেস্টিও বলছে দেশে কোন মানবাধিকার নেই। ফেসবুক ভাইবার বিহীন দেশ, পথ না হারিয়ে কোথায় যাবে বাংলাদেশ? আসুন, প্রতিবাদে সবাই এক ঘন্টা ‘ডাক ফেস’ করে শাহবাগে অবস্থান গ্রহন করি।
১৫ বছরের এক বালক প্রেমিকঃ
ভাই, এই অন্যায়, এই জুলুম আমি আর সহ্য করতে পারতেছিনা। অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়া কাইল্কা দুপুর থাইকা আমার সৌলমেট স্যাকিনা আমার লগে কনভার্সেশন চালাইয়াই যাইতেছে। এই পর্যন্ত ১২ ঘন্টা টকটাইম খাইছে মোবাইল। এই টাকায় আমি ছয়মাস ভাইবারে কথা কইতে পারতাম। আমি এর ক্ষতিপুরন চাই।
লন্ডন হইতে মাদাম পিঙ্কীঃ
আমরা, হ্যা হ্যা আমরা, আমাদের সময় আমরা তথ্য প্রযুক্তির উপর কোনরুপ নিয়ন্ত্রন আরোপ করিনি। আমরা আসলে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কোনকিছুই করিনি, কপালের উপর সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। কপাল আমাদের সাবমেরিন কেবলের সাথে সংযুক্ত করেছিলো। এই কপালের উপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করছে এই নব্য স্বৈরাচার। এ নির্ঘাত ষড়যন্ত্র। এর বিরুদ্ধে জনগনকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। সেই আন্দোলনের ঘোষনা আসবে কোন এক লাল শুক্রবারে। লাল শুক্রবারের কথা মনে আসতেই আমার আবার মনে হচ্ছে রেডমিট কিংবা লাল মাংসের কথা। দজ্জাল প্রতিবেশীরা আমাদের লাল মাংস খাওয়া থেকেও বঞ্চিত করছে। সেটা নিয়েও আন্দোলন দরকার। আন্দোলন হবে সকল ইস্যুতে। কিন্তু কবে শুরু হবে সেটা আপনাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে স্পস্টভাবে জানানো হবে। এই পর্যসবেক্ষন নিয়ে পর্যবেক্ষন আপনাদের কোন এক ঈদের পরে জানান হবে। কোন বছরের ঈদ সেটাও পরে জানানো হবে।
ঢাকায় হইতে “নাম নেয়া যাবেনা”:
জনগনকে অল্পকিছুদিন ফেসবুক, ভাইবার ইত্যাদি নানা সেবা থেকে দূরে রেখে আমরা তাদের উপলব্ধি করাতে চাই যে আমরা তাদের কি দিয়েছি। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান কিংবা শিক্ষা স্বাস্থ্যের চেয়ে ডিজিটাল সেবা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। আমি ঘোষনা করছি বিগত ব্যর্থ সরকারগুলোর মত একটি ঘর একটি খামার নীতির বাইরে বেরিয়ে এসে আমরা একটি ঘর দুইটি হটস্পট প্রকল্প সম্পন্ন করবোই। দেশের ঘরে ঘরে ছাগলের পরিবর্তে পৌছে দেয়া হয়ে দুইটি করে ওয়্যারলেস রাউটার। একটি মেইন, একটি স্ট্যান্ডবাই। এটাও একটা স্বপ্ন, এই স্বপ্ন দেখা হয়েছিলো…
আলিফ হায় হোসেনঃ
এ অন্যায়, ঘোরতর অন্যায়। আজকে আরেকবার লাইক কমেন্ট বিপ্লব ঘটবার কথা ছিলো, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে আকাল তৈরী করেছে সরকার। এতে মানুষজন মনে কতটা বেদনা অনুভব করছে সরকার কি তা জানে? তরুন প্রজন্মের বিশাল একটা অংশ আজ দিশেহারা। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। আর পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে আমাদেরই। হ্যা, আমরাই পারি। আমরাও দেখিয়ে দেবো আমরা পারি। ফেসবুক ফিরে এলেই সরকারকে আমরা দেখিয়ে দেবো আমরা পারি। আমরাও পারি চোখ বন্ধ করে লাইক বাটন টীপতে। দিলখুলে কমেন্ট করতে।
কি, আমরা পারবো না?
গোস্তখাঁ পারুকীঃ
না, এইভাবে একটা দেশ চলতে পারেনা। নেট আছে কিন্তু ফেসবুক ভাইবার নাই, এইটা কিছু হইলো? ফেসবুক ভাইবার বিহীন নেট দিয়া আমরা কি করিব?
পান্তা খাইসুঃ
আমি পুলক অনুভব করতেছি। মানুষের ছটফট দেখিয়া আমার মনে হইতাছে একদিন এই সামান্য ফেসবুক ভাইবারের জন্য আমাগো কোন ছটফট আছিল না। সেইদিনগুলার একটা অদ্ভুত আমেজ পাইতাছি হে ফেসবুক ভাইবার পাগল বেক্কল তরুন প্রজাতি।
কাবুল খাল গাব্দুল কুহিতঃ
দুইদিন ফেসবুক ভাইবার বন্ধ থাকবার কারনে আইএসডি কলের সংখ্যা বেড়ে যাবে। বৈধ পথেই আইজিডব্লিউ গুলোর মাধমে কোটি কোটি মিনিট কল টার্মিনেট হবে প্রতিদিন। আমরা সে ব্যাপারে হিসেব করছি। এ ব্যাপারে আশানুরুপ ফলাফল আসলে প্রতি সপ্তাহে একদিন হলেও ফেসবুক এবং ভাইবার বন্ধ করবার ব্যাপারে আমি সুপারিশ করবো। এই সুপারিশ পে কমিশনের রিপোর্টের মত কবে বাস্তবায়ন হবে তা সময়ে সময়ে আপনাদের জানানো হবে।
কালা বিলাইঃ
ফেসবুক, ভাইবার বন্ধ হয়েছে এইসব নিতান্তই অমুলক কথাবার্তা। এইসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।
(পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো, ‘স্যার, ঘটনা সত্যি। সরকার বন্ধ কইরা দিছে।‘)
ও হ্যা, বন্ধ থাকতে পারে, এমন কি যেন শুনেছিলাম। ফেসবুক এবং ভাইবারের সংস্কার, রক্ষনাবেক্ষন এবং আধুনিকায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সেই সংস্কার কাজের জন্যই অল্প কয়দিন এইসব বন্ধ থাকবে। আপনারা এ নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না।
জোবায়দুল নাদেরঃ
আপনারা অবগত আছেন যে কেন এসব বন্ধ করা হয়েছে। আমি ভীষনভাবে দুঃখিত। আগামীতে এসব যেন আর বন্ধ করা না হয় এবং আপনারা আরো উন্নত সেবা পেতে পারেন আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতে ফেসবুকের জন্য আলাদা সাবমেরিন কেবল সংযোগ নেয়া হবে। ভাইবার সেবার সুবিধার্থে উক্ষেপনের অপেক্ষায় থাকা স্যাটেলাইটের অর্ধেক ট্রান্সপন্ডার বরাদ্দ রাখার জন্য আমি বিশেষভাবে সুপারিশ করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা আছে। মানুষজন ফেসবুক ভাইবার নিয়ে ব্যস্ত থাকলে রাস্তায় নামার দরকারই হবেনা। রাস্তা থাকবে যানজটমুক্ত। সরকার এইলক্ষ্যে ভিশন ২১১৫ গ্রহন করেছে। আমরা সে লক্ষ্য অর্জনেই কাজ করে যাচ্ছি।
লেঃ জেঃ হুমু
(সাংবাদিক চুন্নি সাহাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে)
কথা হবে চুপিসারে, সাক্ষাত হবে একান্তে, গোপনে। এইসবের জন্য ফেসবুক ভাইবারের কি দরকার? সরকারের এই পদক্ষেপ সম্পুর্ন সঠিক। চুন্নি সাহা, মিট মি এট জিরো আওয়ারস, এট প্রেসিডেন্টস প্যালেস।
(সকল চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে কোন মিল পাইলে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত )
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷