(AB-Hera) সরকারিভাবে বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ কয়েকটি যোগাযোগ অ্যাপস বন্ধ করে দেওয়া হলেও ফেসবুকে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও আইসিটি ডিভিশনের ফেসবুক পেজ সচল দেখা গেছে। একই সাথে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও ফেসবুকে সচল থাকতে দেখা গেছে। অচল সময়ে এসব সচল ফেসবুক পেজে নিউজ শেয়ার, সচেতনতা মূলক পোস্ট, স্ট্যাটাস ও ছবি শেয়ার করতে দেখা গেছে।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর গতকাল আবারও নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় অনেকেই পক্সি সার্ভার ব্যবহার করে ফেসবুকসহ ব্লক অ্যাপস ব্যবহার করছেন। তবে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়ার পরেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ডিভিশনের ফেসবুক পেজ সচল হওয়াতে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কেউ কেউ ফেসবুকে লিখেছেন, যারা আইন করছে তারাই আইন ভঙ্গ করে অন্যদের পথ দেখাচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বুধবার দুপুর ১.১৫ থেকে প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরও আগে পনে ১২টার দিকে ফেসবুকসহ কয়েকটি অ্যাপস বন্ধে করে দেওয়া হয়। কিন্তু এটুআই আজ সন্ধ্যা ৬টায় তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বিদেশ যেতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বিষয়ক একটি সচেতনতা মূলক লেখা ও ছবি পোস্ট করে। সেখানে লেখা হয়েছে, "নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বরের পর থেকে হাতে লিখা Passport দিয়ে আর বিদেশ ভ্রমণ করা যাবেনা। বিদেশ ভ্রমণ করতে মেশিন রিডেবল Passport (MRP) লাগবে। আর দেরি না করে আজই নবায়ন করে ফেলুন আপনার Passport."
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ডিভিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রাত ৯টায় একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত গ্রামীণফোনের ফ্রি ওয়াইফাই বিষয়ক একটি পোস্ট শেয়ার দিয়েছে।
তবে এ সময় আইটি ও টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্তাদের ফেসবুকে দেখা যায়নি। ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ফেসবুক পেজ-আইডি, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিমের ফেসবুক পেজ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর সচিব মো. সারওয়ার আলমের ফেসবুকে নতুন কোন পোস্ট দেখা যায়নি।
বুধবার বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই’ অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে। তারানা বলেন, অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যান্য অ্যাপস যেমন ট্যাংগো, আইএমও, টুইটারসহ অন্যগুলোও নজরদারিতে রয়েছে। ‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে’ গ্রাহকদের এই কষ্ট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্ধ হওয়া অ্যাপগুলো চালু হতে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
এর আগে গত ১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরকালে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাইবার ক্রাইম বন্ধে কিছুদিনের জন্য ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপসগুলো বন্ধ রাখার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সন্ত্রাসীরা অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিনামূল্যের এসব মাধ্যম ব্যবহার করছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময় বাংলাদেশে সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ভাইবার ও ট্যাংগো এবং ১৯ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপ, মাইপিপল ও লাইন বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তখন পুলিশ বলেছিল, নাশকতাকারীরা মোবাইল ফোনে কথা না বলে ইন্টারনেটভিত্তিক এসব অ্যাপ ব্যবহার করায় তাদের ধরতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া দেশে সর্বশেষ ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে বন্ধ থাকা ফেসবুক কবে খুলে দেওয়া হবে তা এখনও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। তবে বিটিআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রিয়.কমকে নিশ্চিত করেছেন, শিগগির ফেসবুক ও অ্যাপসগুলো চালু করা হবে।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷