বিপিএলই আমিরের ফেরার মঞ্চ!
ক্রিকেটে তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল ঝড় তুলে। ক্রিকেটের নতুন ‘বিস্ময় বালক’ তকমাটিকে সত্য প্রমাণ করেছিলেন মাত্র এক বছরের মাথায়। বিশ্ব ক্রিকেটের পেস ...
ক্রিকেটে তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল ঝড় তুলে। ক্রিকেটের নতুন ‘বিস্ময় বালক’ তকমাটিকে সত্য প্রমাণ করেছিলেন মাত্র এক বছরের মাথায়। বিশ্ব ক্রিকেটের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ বলেই ভাবা হচ্ছিল মোহাম্মদ আমিরকে। কিন্তু স্পট ফিক্সিংয়ের ফাঁদে পড়ে নিজেকে কলঙ্কিত করেছেন। লম্বা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেছেন ক্রিকেটে, কিন্তু তাঁকে নিয়ে কুঁচকানো ভ্রু কিন্তু এখনো সোজা হচ্ছে না অন্য খেলোয়াড়দের। দাগি আসামির মতো লেগে যাওয়া কালিটা যেন মুছতে পারছেন না কিছুতেই। এরই মধ্যে বিপিএলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স দিয়ে পাকিস্তান দলেও জায়গা করে নিতে চান আমির।
বিপিএলের তৃতীয় আসর শুরু হচ্ছে আজ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংস। চিটাগং দলের হয়ে খেলবেন আমির। নিজের দেশেই যেখানে খেলার সুযোগ পেতে লড়তে হচ্ছে তাঁকে, সেখানে বিপিএলের মতো এত বড় এক টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন এই বাঁহাতি পেসার। টুর্নামেন্ট শুরু আগে পাকিস্তানের এক ওয়েবসাইটকে তিনি বলেছেন, ‘বিপিএলের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছি। অনেকটা স্বপ্ন সত্য হওয়ার মতো। পাকিস্তান দলে ফেরার পথে এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ আমার আসল স্বপ্ন তো আবারও পাকিস্তান দলে খেলা। চিটাগং ভাইকিংসের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ আমাকে এমন একটি সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি নিশ্চিত আমার এমন সুযোগ প্রাপ্তিতে অনেকেই ঈর্ষান্বিত।’
আমির দলে ফেরার লড়াইয়ে পরিচিত কিছু মুখকে পাচ্ছেন সঙ্গী হিসেবে। কামরান আকমল, উমর আকমল এবং সাঈদ আজমলও খেলছেন চট্টগ্রাম দলে। তিলকরত্নে দিলশান, তামিম ইকবালের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত মুখও আছে এই দলে। এমন বড় বড় নামের পাশে আবার খেলার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত আমির, ‘চিটাগং দলে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় আছে। তাদের সঙ্গে খেলতে পারব ভেবেই আমি রোমাঞ্চিত। দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিরোপা জয়, সে হিসেবে বেশ বড় এক দায়িত্বই পড়েছে আমার কাঁধে। ২২ তারিখ (আজ) রংপুরের সঙ্গে ম্যাচে আমার সর্বোচ্চটাই দেওয়ার চেষ্টা করব। নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আশা করছি আমরাই শিরোপা জিতব।’
পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ফেরাটা হয়েছে দুর্দান্ত। তারপরও অতীতের পাপ এখনো পিছু ছাড়েনি। স্থানীয় ক্রিকেটে অন্যান্য খেলোয়াড়েরা আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন আমিরের ফেরাকে তাঁরা ভালোভাবে নেননি। কিন্তু আমির আপাতত এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন। নিজের দ্বিতীয় ‘জীবন প্রাপ্তি’কেই বড় করে দেখছেন। আর সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করাটাকেই লক্ষ্য মানছেন এই পাকিস্তানি, ‘খোদাকে ধন্যবাদ আমাকে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার জন্য। নতুন করে শুরু করার পর কঠিন সময় পার করে এসেছি আমি। তবে কায়েদ-ই-আযম ট্রফির বাছাইপর্বে ৩৪টি উইকেট পাওয়া বেশ কাজে লেগেছে। তবে বাবা-মা এবং ভক্তদের অনুপ্রেরণা না থাকলে এসবের কিছুই সম্ভব হতো না। আমি তাঁদের কাছে ঋণী, আশা করি ভবিষ্যতে আর কখনো তাঁদের হতাশ করব না।’
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷